Academy

"মৌমাছি, মৌমাছি 

কোথা যাও নাচি নাচি 

দাঁড়াও না একবার ভাই। 

এই ফুল ফোটে বনে 

যাই মধু আহরণে 

দাঁড়াবার সময় তো নাই।"

'শানু' শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

'শানু' শব্দটি দ্বারা কয়লা ভাঙার পাথরকে বোঝানো হয়েছে।

মিনু প্রতিদিন কাজ করার জন্য ভোর ৪টায় ঘুম থেকে ওঠে। সে দিনের প্রথম কাজ হিসেবে চুলা ধরানোর জ্বালানি কয়লা ভাঙার কাজ শুরু করে। কয়লাগুলোকে সে তার শত্রু মনে করে পাথরের উপর রেখে প্রচণ্ড আঘাতে তা ভাঙতে থাকে। এ পাথরটি শানের মতো শক্ত। এজন্য এটিকেই মিনু নাম দেয় শানু।

9 months ago

মিনু

মা-মরা মেয়ে মিনু। বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। সে মানুষ হচ্ছে এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। বয়স মাত্র দশ, কিন্তু এই বয়সেই সবরকম কাজ করতে পারে সে। সবরকম কাজই করতে হয়। লোকে অবশ্য বলে যোগেন বসাক মহৎ লোক বলেই অনাথা বোবা মেয়েটাকে আশ্রয় দিয়েছেন। মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যোগেন বসাকের। পেটভাতায় এমন সর্বগুণান্বিতা চব্বিশ ঘণ্টার চাকরানী পাওয়া শক্ত হতো তাঁর পক্ষে। বোবা হওয়াতে আরো সুবিধা হয়েছে, নীরবে কাজ করে। মিনু শুধু বোবা নয়, ঈষৎ কালাও। অনেক চেঁচিয়ে বললে, তবে শুনতে পায়। সব কথা শোনার দরকারও হয় না তার। ঠোঁটনাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে। এছাড়া তার আর একটা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে যার সাহায্যে সে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস মনে মনে সৃষ্টি করে, সাধারণ বুদ্ধিতে যার মানে হয় না। মিনুর জগৎ চোখের জগৎ, দৃষ্টির ভিতর দিয়েই সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে সে। শুধু গ্রহণ করে নি, নতুন রূপে নতুন রং আরোপ করেছে তাতে।

খুব ভোরে ওঠে সে। ভোর চারটের সময়। উঠেই দেখতে পায় পূর্ব আকাশে দপদপ করে জ্বলছে শুকতারা। পরিচিত বন্ধুকে দেখলে মুখে যেমন মৃদু হাসি ফুটে ওঠে, তেমনি হাসি ফুটে ওঠে মিনুর মুখেও। মিনু মনে মনে বলে-সই ঠিক সময়ে উঠেছ দেখছি। বৈজ্ঞানিকের চোখে শুকতারা বিরাট বিশাল বাষ্পমণ্ডিত প্রকাণ্ড গ্রহ, কবির চোখে নিশাবসানের আলোকদূত, কিন্তু মিনুর চোখে সে সই। মিনুর বিশ্বাস সে-ও তার মতো কয়লা ভাঙতে উঠেছে ভোর বেলায়, আকাশবাসী তার কোনো পিসেমশায়ের গৃহস্থালিতে উনুন ধরাবার জন্যে। আকাশের পিসেমশায়ও হয়তো ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করে তার নিজের পিসেমশায়ের মতো। শুকতারার আশেপাশে কালো মেঘের টুকরো যখন দেখতে পায়, তখন ভাবে ঐ যে কয়লা। কী বিচ্ছিরি করে ছড়িয়ে রেখেছে আজ। বলে আর মুচকি মুচকি হাসে। তারপর নিজে যায় সে কয়লা ভাঙতে। কয়লাগুলো ওর শত্রু। শত্রুর উপর হাতুড়ি চালিয়ে ভারি তৃপ্তি হয় ওর। হাতুড়িটার নাম রেখেছে গদাই, আর যে পাথরটার উপর রেখে কয়লা ভাঙে তার নাম দিয়েছে শানু। শানের সঙ্গে মিল আছে বলে বোধ হয়। কয়লা-গাদার কাছে গিয়ে রোজ সে ওদের মনে মনে ডাকে-ও গদাই ও শানু ওঠো এবার, রাত যে পুইয়ে গেছে। সই এসে কয়লা ভাঙছে। তোমরাও ওঠো, কয়লা ভেঙে তারপর যায় সে ঘুঁটের কাছে। ঘুঁটে তার কাছে ঘুঁটে নয়, তরকারি। উনুনের নাম রাক্ষসী। উনুন রাক্ষসী কেরোসিন তেল দেওয়া ঘুঁটের তরকারি দিয়ে শত্রুদের মানে কয়লাদের। খাবে। আঁচটা যখন গনগন করে ধরে ওঠে তখন
ভারি আনন্দ হয় মিনুর। জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে তার মনে হয় রক্তাক্ত মাংস, আর আগুনের লাল আভাকে মনে হয় রাক্ষসীর তৃপ্তি। বিস্ফারিত নয়নে সে চেয়ে থাকে। তারপর ছুটে চলে যায় উঠোনে; আকাশের
দিকে চেয়ে দেখে সেখানে উষার লাল আভা ফুটছে কি না। উষার লাল আভা যেদিন ভালো করে ফোটে সেদিন সে ভাবে সইয়ের উনুনে চমৎকার আঁচ এসেছে। যেদিন আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে সেদিন ভাবে, ছাই পরিষ্কার করে নি, তাই আঁচ ওঠে নি আজ। এইভাবে নিজের একটা অভিনব জগৎ সৃষ্টি করেছে সে মনে মনে। সে জগতের সঙ্গে বাইরের জগতের মিল নেই। সে জগতে তার শত্রু-মিত্র সব আছে। আগেই বলেছি কয়লা তার শত্রু। রান্নাঘরের বাসনগুলি সব তার বন্ধু। তাদের নাম রেখেছে সে আলাদা আলাদা। ঘটিটার নাম পুটি। ঘটিটা একদিন হাত থেকে পড়ে গিয়ে তুবড়ে গেল। মিনুর সে কী কান্না! তোবড়ানো জায়গাটায় রোজ হাত বুলিয়ে দেয়। গেলাস চারটের নাম হারু, বাবু, তারু আর কারু। চারটে গেলাসই একরকম। কিন্তু মিনুর চোখে তাদের পার্থক্য ধরা পড়ে। গেলাসগুলোকে যখন মাজে বা ধোয় তখন মনে হয় সে যেন ছোট ছেলেদের স্নান করাচ্ছে। মিটসেফটা ওর শত্রু। ওটার নাম দিয়েছে গপগপা। গপগপ করে সব জিনিস পেটে পুরে নেয়। মাঝে মাঝে একদৃষ্টে চেয়ে থাকে মিটসেফের চকচকে তালাটার দিকে, আর মনে মনে বলে- আ মর, মুখপোড়া সব জিনিস পেটে পুরে বসে আছে। মিনুর আর একটি দৈনন্দিন কর্তব্য আছে। যখন অবসর পায় টুক করে চলে যায় ছাদে। ছাদ থেকে একটা বড় কাঁঠাল গাছ দেখা যায়। কাঁঠাল গাছের মাথার দিক থেকে একটা সরু শুকনো ডাল বেরিয়ে আছে। সেই ডালটার দিকে সাগ্রহে চেয়ে থাকে মিনু। মনে হয় তার সমস্ত অন্তর যেন তার দৃষ্টিপথে বেরিয়ে গিয়ে আশ্রয় করেছে ওই ডালটাকে। এর কারণ আছে। তার জন্মের পূর্বেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল। বাবাকে সে দেখে নি। অনেকদিন আগে তার মাসিমা তার কানের কাছে চিৎকার করে একটা বিস্ময়কর খবর বলেছিল। তার বাবা নাকি বিদেশ গেছে, অনেক দূর বিদেশ, মিনু বড় হলে তার কাছে ফিরে আসবে, হয়তো তার কোলেই আসবে। মিনু বুঝতে পারে নি ব্যাপারটা ভালো করে। একটা জিনিস কেবল তার মনে গাঁথা হয়ে ছিল, বাবা ফিরে আসবে। কবে আসবে? মিনু কত বড় হলে আসবে? কথাটা মাঝে মাঝে ভাবত সে।

এমন সময় একদিন একটা ঘটনা ঘটল। সে সেদিনও ছাদে দাঁড়িয়েছিল। দেখতে পেল পাশের বাড়ির টুনুর বাবা এলো বিদেশ থেকে অনেক জিনিসপত্র নিয়ে, আর ঠিক সেই সময়ে তার নজরে পড়ল ঐ সরু ডালটায় একটা হলদে পাখিও এসে বসল। সেদিন থেকে তার বদ্ধ ধারণা হয়ে গেছে ওই সরু ডালে যেদিন হলদে পাখি এসে আবার বসবে, সেদিনই তার বাবা আসবে বিদেশ থেকে। তাই ফাঁক পেলেই সে ছাদে ওঠে। কাঁঠাল গাছের ওই সরু ডালটার দিকে চেয়ে থাকে। হলদে পাখি কিন্তু আর এসে বসে না। তবু রোজ একবার ছাদে ওঠে মিনু। এটা তার দৈনন্দিন কর্তব্যের মধ্যে একটা। এর কয়েকদিন পর রাত্রে কম্প দিয়ে জ্বর এলো তার। কাউকে কিছু বললে না। মনে হলো জ্বর হওয়াটাও বুঝি অপরাধ একটা। ভোরে ঘুম ভেঙে গেল, রোজ যেমন কয়লা ভাঙতে যায় সেদিনও তেমনি গেল, সেদিনও চোখে পড়ল শুকতারাটা দপদপ করে জ্বলছে। মনে মনে বলল- সই এসেছিস। আমার শরীরটা আজ ভালো নেই ভাই। তুই ভালো আছিস তো? উনুনে আঁচ দিয়ে কিন্তু সে আর জল ভরতে পারল না সেদিন। শরীরটা বড্ড বেশি খারাপ হতে লাগল। আস্তে আস্তে গিয়ে শুয়ে পড়ল নিজের বিছানায়। কেমন যেন ঘোর-ঘোর মনে হতে লাগল। নিজের ছোট্ট ঘরটিতে মিনু জ্বরের ঘোরে শুয়ে রইল খানিকক্ষণ। জ্বরের ঘোরেই হঠাৎ তার মনে হয় একটা দরকারি কাজ করা হয় নি। আস্তে আস্তে উঠল সে বিছানা থেকে, তারপর খিড়কির দরজা দিয়ে গিয়ে দাঁড়াল ছাদের সিঁড়ির কাছে। সিঁড়ির কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে আস্তে উঠে গেল ছাদে। কেউ দেখতে পেল না। পিসিমা পিসেমশাই তখনও ঘুমুচ্ছেন। ছাদে উঠেই চোখে পড়ল লালে লাল হয়ে গেছে পূর্বাকাশ। বাঃ চমৎকার আঁচ উঠেছে তো সইয়ের। একটু হাসল সে। তারপর চাইল সেই সরু ডালটার দিকে। সর্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল তার। একটা হলদে পাখি এসে বসেছে। তাহলে তো বাবা নিশ্চয় এসেছে। আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না ছাদে। যদিও পা টলছিল তবু সে প্রায় ছুটে বেরিয়ে এলো বাইরে।

Content added || updated By

Related Question

View More

1 মিনু কার বাড়িতে থাকত? (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

মিনু তার এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকত।

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের বাইরে মানুষের তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

ছোট মেয়ে মিনু বোবা ও বধির। চিৎকার করে বললে সে কথা শুনতে পায়। ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। মিনু তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি দিয়ে এমন সব জিনিস বুঝতে পারে, এমন সব জিনিস সৃষ্টি করে যা সাধারণের দ্বারা কষ্টসাধ্য। মিনুর এ অনুভূতিশক্তিকেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হিসেবে বোঝানো হয়েছে।

অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যা ও মিনুর মধ্যে 'বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

পৃথিবীতে ভালো-মন্দ দু'রকম মানুষেরই সংমিশ্রণ রয়েছে। ভালো মনের মানুষ পরকেও আপন করে নেয়। আবার মন্দ মনের মানুষ আপনকেও সহজেই পর করে দেয়।

উদ্দীপকের বন্যা মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে। সালমা তার আত্মীয় নয়, কিন্তু বন্যাকে স্কুলে পড়াশুনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বন্যার গুণে তিনি তাকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করেন। অন্যদিকে 'মিনু' গল্পের মিনু তার দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকলেও তাকে নানা রকম কাজ করতে হয়। সেখানে বন্যার মতো মিনু পড়াশুনার সুযোগ পায়নি। মিনু ও বন্যা উভয়কেই অন্যের সংসারে কাজ করতে হয়। কিন্তু অবস্থানগত কারণে বন্যা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায় আর মিনু বঞ্চনার শিকার হয়- উভয়ের মাঝে এই বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।

শিক্ষা মানবজীবনের অপরিহার্য সম্পদ। শিক্ষাগ্রহণ মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে এবং সেটাকে সে তার যাপিত জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে।

উদ্দীপকের বন্যা এবং 'মিনু' গল্পের মিনুর শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রের পার্থক্য রয়েছে। বন্যা সারা সকাল মিসেস সালমার বাসায় কাজ করে দিবা শাখার স্কুলে পড়ালেখা করে। সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পেলেও বাইরের জগতের শিক্ষা পায়নি। অপরপক্ষে মিনু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলেও প্রকৃতির কাছ থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

'মিনু' বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি রয়েছে। সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে। প্রকৃতি তার শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা। উদ্দীপকের বন্যার মতো মিনুর বন্ধুত্ব না হলেও প্রকৃতির মাঝে সে শিক্ষা ও সাহচর্য খুঁজে নেয়। তাই বলা যায় বন্যার শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, আর প্রকৃতি হচ্ছে মিনুর পাঠশালা- মন্তব্যটি যথার্থ।

5 বনফুলের প্রকৃত নাম কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

শুকতারা মিনুর মতোই খুব ভোরে জেগে ওঠে বলে সে শুকতারাকে সই বলেছে।

পিতৃ-মাতৃহীন মিনু দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থাকে। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সে একাই করে। তাই প্রতিদিন ভোরে মিনুকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে শুকতারার সাথে। সে মনে করে শুকতারাও হয়তো তার মতোই কয়লা ভাঙার কাজের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। মিনু এ কারণেই শুকতারাকে সই বলেছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...